২০১৪ বিশ্বকাপ নিয়ে বোমা ফাটালেন জার্মান ফুটবলার

দুয়ারে কড়া নাড়ছে কাতার বিশ্বকাপ। আর মাত্র কয়েক মাস পরই পর্দা উঠছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’। এদিকে, মর্যাদার এই আসর শুরুর আগে রীতিমতো বোমা ফাটালেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লোথার ম্যাথাউস।

Advertisements

২০১৪ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তার দেশ জার্মানি। সেই ফাইনাল নিয়েই হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন তিনি। তার মতে, ব্রাজিলের মাটিতে হওয়া সেই ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আর সে কারণেই বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে জার্মানি।

একবিংশ শতাব্দীতে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে আছে ২০১৪ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি একের পর এক মাইলফলকে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেও ছিল না কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের রেকর্ড, যা নিয়ে সমালোচকদের কম কটু কথাও শুনতে হয়নি তাকে।

তবে ২০১৪ সালে সুযোগ এসেছিল সব সমালোচনা গুঁড়িয়ে দেয়ার। সবার প্রত্যাশা ছাপিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালেও উঠে গিয়েছিল সেবার। আর এক ধাপ অতিক্রম করতে পারলেই দেখা মিলত সেই সুদৃশ্য ট্রফিটার। ১৯৮৬ সালের পর তৃতীয়বারের মতো শিরোপাও জিততে পারত। কিন্তু সেদিন ভাগ্যদেবতা লাতিন পরাশক্তিদের পক্ষে ছিলেন না।

মেসি, হিগুয়েনদের কাঁদিয়ে শিরোপা জেতে জার্মানি। সেই ক্ষতেই যেন প্রলেপ দিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী লোথার ম্যাথাউস। ১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ এনে দেয়া এই অধিনায়ক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সে বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনারই জেতা উচিত ছিল। তার নিজের দেশ ভাগ্যবান ছিল বলেই সে বিশ্বকাপটা জিতে গেছে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের স্মৃতি ও ভবিষ্যদ্বাণী করেন ম্যাথাউস। আগের সব বিশ্বকাপ নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়েই ২০১৪ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের মত জানান।

সেই ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে হিগুয়েনের কল্যাণে বেশ বড় একটা সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল জার্মানির বিপৎসীমায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তখনই ম্যানুয়েল নয়্যার গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন।

তবে তা ছিল বক্সের দাগের ঠিক ওপরে, তা করতে গিয়ে হিগুয়েনের সঙ্গে একপ্রকার সংঘর্ষ ঘটে তার। সেটা ক্লিয়ার ছিল না ফাউল, এ নিয়ে বিশ্বকাপের পরও তর্ক-বিতর্ক কম হয়নি। বলের নাগালটা হিগুয়েন আগে পেয়েছিলেন না নয়্যার, এ নিয়েও বিতর্ক হয়েছে বেশ।

তবে ম্যানুয়েল নয়্যারের ধাক্কায় হিগুয়েন পড়ে যাওয়ার পর পেনাল্টির আবেদনে সরব হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইতালির রেফারি নিকোলা রিজ্জোলি মেসিদের সে আবেদনে সাড়া দেননি, পেনাল্টি বঞ্চিত হন আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাথাউসের মতে, নয়্যার ফাউল করেছিলেন হিগুয়েনকে এবং সে ফাউলের জন্য পেনাল্টি প্রাপ্য ছিল আর্জেন্টিনার। বলেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনার জেতা উচিত ছিল। মানুয়েল নয়্যারের সে ফাউলে পেনাল্টি দেয়া উচিত ছিল রেফারির। কিন্তু আমরা ভাগ্যবান ছিলাম (যে রেফারি পেনাল্টি দেয়নি)।

খুব বড় এক অপরাধ হয়েছিল সেদিন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। একবার ভাবুন তো, সেদিন যদি রেফারি পেনাল্টি দিত, আর বলটা যদি জালে জড়াতে পারতেন মেসি, তাহলে হয়তো নব্বই মিনিট পরই তৃতীয় শিরোপার উৎসব শুরু করে দিত আর্জেন্টিনা।

উল্লেখ্য, সেদিনের ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকায় অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হয়। যেখানে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা পায় জার্মানি। অন্যদিকে, অপেক্ষা বাড়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির।

Related posts

Leave a Comment